1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

১৮ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক মাত্র ৬ জন, অফিস স্টাফ নেই একজনও

রিপোর্টারের নামঃ Admin
  • আপডেট টাইমঃ 15-08-2026 ইং
  • 453 বার পঠিত
ad728

মোঃ এখলাস শেখ, মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট বিরাজ করছে। ১৮টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬ জন। অন্যদিকে, অফিস স্টাফের অনুমোদিত ৭টি পদের একটিতেও কোনো কর্মচারী নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।

বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি শ্রেণিতে প্রায় ৪৮০ জন ছাত্রী লেখাপড়া করছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ছয়জন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সরকারি বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ধর্ম, ভূগোল, কৃষি, ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য কোনো শিক্ষক নেই। ফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেকটা বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে কোচিং বা অতিরিক্ত পড়াশোনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সীমিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রমের পরিধিও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এটি একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় হলেও বর্তমানে কোনো নারী শিক্ষক কর্মরত নেই। অভিভাবকদের মতে, কিশোরী শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে পরামর্শ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে নারী শিক্ষকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দ্রুত নারী শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুধু শিক্ষক নয়, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জনবল সংকটও প্রকট। অফিস স্টাফের অনুমোদিত ৭টি পদই শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারী, হিসাব-সংক্রান্ত কাজ, কম্পিউটার ও দাপ্তরিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পড়তে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়ছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এমন জনবল সংকটের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চলছে। কিছুদিন আগে বিষয়টি খুলনা আঞ্চলিক উপপরিচালকের (ডিডি) কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অফিস স্টাফ নিয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শিক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রশ্ন এখন একটাই—১৮টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে মাত্র ৬ জন শিক্ষক এবং ৭টি অফিস পদের একটিতেও কর্মচারী না থাকলে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কতটা সম্ভব? দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ফলাফলে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728